Mymensingh PBS - 1

Online Application For New Connection

Use electricity, eradicate poverty!

Message from GM

পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম স্বাধীন বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে একটি সুদৃঢ় সফল সংযোজন। “লাভ নয়, লোকসান নয়” এ নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত একটি জাতীয় কর্মসূচীকে সফল করার দৃঢ় প্রত্যয়ে ময়মনসিংহ ও টাংগাইল জেলার ০৮টি উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণে নিয়োজিত ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ একটি সমবায় ভিত্তিক সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান। সম্মানিত গ্রাহকগণই সমিতির মালিক ও সেবক, এ ধারনা ভিত্তিক পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম দেশে-বিদেশে বেশ প্রশংসিত হয়েছে এবং তারই ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিতরণ লাইন রক্ষনাবেক্ষন, গ্রাহক অভিযোগ তড়িৎ নিরসন, সময়মত বিদ্যুৎ বিল বিতরণসহ উন্নত গ্রাহক সেবা প্রদানের জন্য সমিতির ভৌগলিক এলাকায় সদর দপ্তর ছাড়াও বর্তমানে ০৩টি জোনাল অফিস, ০১টি সাব জোনাল অফিস, ০২ টি এরিয়া অফিস এবং বিভিন্ন স্থানে ১৬টি অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন শত প্রতিকুলতা ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও অত্র সমিতি অক্টোবর’২০১৬ইং পর্যন্ত ৫,৯০৭ কিঃ মিঃ লাইন বিদ্যুতায়ন করে বিভিন্ন শ্রেণী মোট ২,৫২,৩৪০ জন গ্রাহকের জন্য সংযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়েই মুক্তাগাছা উপজেলার রামচন্দ্রপুর এ আরও একটি ১০ এমভিএ (মুক্তাগাছা-০৩), খামার বাজারে একটি ১০ এমভিএ, চেচুয়া বাজারে একটি ১০ এমভিএ, ঘাটাইল সাগরদিঘীতে একটি ১০ এমভিএ ,মধুপুর কাকরাইদ এ একটি ১০ এমভিএ এবং ভুয়াপুর উপজেলায় একতটি ১০ এমভিএ উপকেন্দ্র নির্মানের কার্যক্রম চলছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও নিরবচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে মুক্তাগাছা উপজেলায় একটি ৩৩ কেভি সুইুচং ষ্টেশন নির্মানের কাজও ইতিমধ্যে হাতে নেয়া হয়েছে। আশা করা যায় অতি শিঘ্রই সুইচিং ষ্টেশনের কাজ সম্পন্ন হবে। বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে সকলের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁচে দেয়অর জন্য বদ্ধ পরিকর। সে কারনে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ২০১৮ সনের মধ্যে কম পক্ষে ৯০ %^ বাড়ীতে সংযোগের লক্ষ্যমাত্রা মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আরও একটি কথা আপনাদের সকলের অবগতির জন্য জানাই যে, লাইন নির্মানের জন্য কোন দালাল বা প্রতারকের খপ্পরে পরবেন না, কারন লাইন নির্মানে তাদের কোন হাত নেই। সরকারী ভাবে বিনা খরচে সরকার সকলের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার জন্য অঙ্গিকরাবদ্ধ।

আপনারা নিশ্চই জানেন যে, এই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিজস্ব কোন উৎপাদন ব্যবস্থা নেই। পিডিবি থেকে নগদ মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় পূর্বক গ্রাহক সদস্যদের নিকট বিতরণ করা হয়। বিদ্যুৎ বিক্রির এ অর্থই সমিতির একমাত্র রাজস্ব আয়ের উৎস। সমিতির উত্তোরোত্তর উন্নয়নের ক্রমধারাকে সচল রাখা এবং সমিতিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার স্বার্থে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা গ্রাহক সদস্যগণের নৈতিক দায়িত্ব। বিদ্যুৎ বিলের অর্থ সরকারী পাওনা, এ বকেয়া আদায়ের স্বার্থে অনেক সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে অনেকসময় গ্রাহক-সদস্যগণের সাথে সমিতির কর্মকর্তা/ কর্মচারীর মধ্যে সু-সম্পর্কের ব্যঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। তাই প্রতি মাসে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে সমিতির আর্থিক কাঠামোকে মজবুত করা এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন সহ অনাকাংখিত পরিস্থিতি থেকে মুক্ত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

বিদ্যুৎ চুরি সিষ্টেম লসের অন্যতম কারন। সিষ্টেম লসের কারনে সমিতি প্রতি বৎসর বিরাট অংকের ক্ষতির ভূর্তকি সমিতিকে দিতে হচ্ছে। সমিতিকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য সিষ্টেম লস একটি বিরাট অন্তরায়। সমিতির কর্মকর্তা কর্মচারীগন দিবারাত্রি অভিযানের মাধ্যমে সিষ্টেম লস নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট রয়েছেন। অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীকে প্রতিহত করুন এবং অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীকে ধরিয়ে দিতে সহযোগীতা করুন।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। জাতীয় উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যবস্থা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পেয়ে থাকে। সরকার দেশের বিদ্যুৎ এর চাহিদা বৃদ্ধির সাথেসাথে উৎপাদনও বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। লাইনের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং মেরামত কাজের জন্য অনেক সময় লাইন বন্ধ রাখা হয় যা একান্তই অনিচ্ছাকৃত। আশা করি সম্মানিত গ্রাহক সদস্যগন এ অনিচ্ছাকৃত অসুবিধা ধৈর্য্য সহকারে মোকাবিলা করবেন। অত্র অঞ্চলে সান্ধ্যকালীন বিদ্যুৎ ঘাটতি সমস্যা মোকাবেলার জন্য পিক-আওয়ারে (বিকাল ৫.০০ ঘটিকা হইতে রাত ১১.০০ ঘটিকা পর্যন্ত) সেচ পাম্প ও শিল্প কারখানা সমূহ বন্ধ রাখতে পারলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সহায়ক হবে। তাই পিক-আওয়ারে সেচ, শিল্প কারখানা বন্ধ রেখে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার বিষয়ে সংশিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

আপনার শুনে আনন্দিত হবেন আমার ইতিমধ্যেই ভূয়াপুর উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন করেছি। আগামী জুন’২০১৭ মাসের মধ্যে ধনবাড়ী উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন হবে ইন্শাআল্লাহ। জুন’২০১৮ মাসের মধ্যে গোপালপুর,মুক্তাগাছা, ঘাাইল এবং ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন করা হবে এবং ডিসেম্বর’২০১৮ মাসের মধ্যে মধুপুর ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন করা হবে। আজকের ৩০ তম বার্ষিক সদস্য সভাকে সাফল্য মন্ডিত করতে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে জানাচ্ছি আন্তরিক ধন্যবাদ। পরিশেষে উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং সকলের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সফলতা কামনা করে আমার বক্তব্য শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ




(মোঃ মকবুল হোসেন)
জেনারেল ম্যানেজার



News & Events